• সাভার

  •  বুধবার, জুলাই ২৪, ২০২৪

নগর জুড়ে

অবৈধ ইটভাটাকে দেওয়া হচ্ছে বৈধতার স্বীকৃতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ১৯:১৫, ৫ জুন ২০২৪

অবৈধ ইটভাটাকে দেওয়া হচ্ছে বৈধতার স্বীকৃতি

অবৈধ ইটভাটাকে দেওয়া হচ্ছে বৈধতার স্বীকৃতি

বায়ুদূষণ কমাতে ঢাকার চারপাশে গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। কিন্তু ঢাকার সাভার ও ধামরাইয়ে একটি অবৈধ ভাটাও বন্ধ হয়নি। উল্টো ছাড়পত্র আর লাইসেন্স দিয়ে অবৈধ ইটভাটাকে দেওয়া হচ্ছে বৈধতার স্বীকৃতি। 

ঢাকার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাভার ও ধামরাইয়ে প্রায় ৪০০ ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় আড়াই বছরে দুই উপজেলার ২০৪টি ভাটাকে ইট পোড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাভারের ৫৪টি ও ধামরাইয়ের ১৫০টি ভাটা রয়েছে। 

ঢাকার মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও সাভার এলাকার ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলী আশরাফ ইফতেখার বলেন, ‘গত ১৫ বছরে সাভার ও ধামরাইয়ে নতুন কোনো ইটভাটা গড়ে ওঠেনি। এই দুই উপজেলায় যেসব ভাটা রয়েছে, তার সবই ১৫ থেকে ৪০ বছরের পুরোনো। তাই নতুন ইটভাটা হিসেবে লাইসেন্স দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

নতুন দেখিয়ে ধামরাইয়ের জলসীন গ্রামের মা ব্রিকসকে ২০২৩ সালে ইট পোড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অথচ আবাসিক এলাকার মধ্যে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ওই ইটভাটায় ২০ বছরের বেশি সময় ধরে ইট পোড়ানো হচ্ছিল। বছর দুয়েক আগে পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে ইট পোড়ানোর দায়ে ভাটাটিকে জরিমানাও করেছিল। 

একইভাবে রাজধানীর প্রবেশপথ আমিনবাজারের পাশে আবাসিক এলাকার এক কিলোমিটারের মধ্যে গড়ে ওঠা মেসার্স বিসিএম অ্যান্ড কোং লিমিটেডকে নতুন ইটভাটা দেখিয়ে গত বছর ইট পোড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আইন অনুযায়ী ভাটাটির ছাড়পত্র ও ইট পোড়ানোর অনুমতি পাওয়ার কথা নয়। ভাটাটিতে ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে অনুমতি ছাড়াই ইট পোড়ানো হচ্ছিল বলে জানান স্থানীয়রা।

সাভারের বড়বরদেশী এলাকার এমএইচবি স্টার ব্রিকসের পাশেই ভাকুর্তা ইউনিয়নের খাতরা ও শ্যামলাপুর গ্রাম। সেখানে কয়েক হাজার লোকের বসবাস। এরপরও জেলা প্রশাসন ওই ভাটাকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত ইট পোড়ানোর অনুমতি দিয়েছে। সাভার পৌর এলাকার গেন্ডা মহল্লায় পাশাপাশি অবস্থিত মেসার্স সুমা ব্রিকস ও মেসার্স কর্ণফুলী সুপার ব্রিকসকেও ইট পোড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অথচ আইন অনুযায়ী ভাটা দুটির অনুমতি পাওয়ার কথা নয়। 

এসব অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক আবুল কালাম আজাদ  বলেন, আইন মেনেই সাভার ও ধামরাইয়ে ইটভাটার ছাড়পত্র দেওয়া হয়। ছাড়পত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনের ব্যত্যয় হলে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 যোগাযোগ করা হলে ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ব্যবসা-বাণিজ্য শাখার (এই শাখা থেকে ইটভাটার লাইসেন্স দেওয়া হয়) সহকারী কমিশনার হামিদা মোস্তফা বলেন, ‘আমি গত সপ্তাহে দায়িত্ব পেয়েছি। বিষয়গুলো আমার জানা নেই। দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য করুন: