• সাভার

  •  শনিবার, মে ১৮, ২০২৪

নগর জুড়ে

মানিকগঞ্জে প্রকল্পের কাজ না করেই সমাপ্তির সাইনবোর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ১০:২২, ৮ মে ২০২৪

মানিকগঞ্জে প্রকল্পের কাজ না করেই সমাপ্তির সাইনবোর্ড

মানিকগঞ্জে প্রকল্পের কাজ না করেই সমাপ্তির সাইনবোর্ড

মানিকগঞ্জে রাস্তা সংস্কারের কাজ না করেই সমাপ্তির সাইনবোর্ড টাঙানোর অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। ফেব্রুয়ারি মাসে সমাপ্তি দেখানো ওই কাজের জন্য ইতোমধ্যে অর্ধেক বিল উত্তোলন করে বাকি টাকার জন্য আবেদন করেছেন তিনি।

জানা গেছে, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ভাড়ারিয়া ইউনিয়নে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচীর আওতায় বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের দ্বিতীয় পর্যায়ে পরিষদের ৯ নং ওয়ার্ডের রাস্তা সংস্কারের কাজ পান মোক্তার আলী। বরুনা ‘ভাষানের বাড়ি থেকে চান মিয়ার বাড়ি’ পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারে কোন কাজ না করেই অর্ধেক বিল উত্তোলন করেছেন তিনি। পুরো বিল উত্তোলনের জন্য আবেদনও করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সরেজমিনে রবিবার দেখা যায়, প্রকল্পে উল্লেখিত ‘ভাষানের বাড়ি থেকে চান মিয়ার বাড়ি’ পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের কোন কাজই করা হয়নি। ভাষানের বাড়ির আগে ছোট্ট একটি ঢাল রয়েছে। সেখানে সামান্য কিছু মাটি পাশ থেকে এনে শুধু সমান করা হয়েছে। এ কাজে তার এক থেকে দেড় হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে অভিজ্ঞ জনেরা মন্তব্য করেন।

বরুনা গ্রামের মো. লুৎফর রহমান বলেন, আমরা এ সড়কেই চলাচল করি এখানেই আমাদের বাড়ি। এ রাস্তায় কোন সংস্কার হয়নি। তবে রাস্তার ঢাল সোজা করা হয়েছে, এতে বড়জোর এক থেকে দেড় হাজার টাকা লাগতে পারে। মো. পান্নু মিয়া বলেন, হঠাৎ করেই দেখি রাস্তার পাশে সাইনবোর্ড; সেখানে প্রকল্প দেখে হতবাক হয়ে গেছি। কারণ ফেব্রুয়ারী মাসে কাজ শেষ করা হয়েছে উল্লেখ করা হলেও সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে পাঁচদিন আগে। আর যে কাজের কথা লেখা আছে সেখানে কোন কাজই করা হয়নি।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুরজাহান বেগম বলেন, কোথাও কাজ হয়েছে কি-না সেটা বলতে পারবোনা। মোক্তার ভাই সাইন করতে বলেছে তাই কমিটির কাগজে সাইন করেছি। বাস্তবায়ন কমিটির দুই সদস্য বরুনা মসজিদের ইমাম মো. রেজাউল করিম ও স্কুল শিক্ষিকা সূচিত্রা রাণী দাস বলেন, মেম্বার এসে সাইন নিয়ে গেছে। কাজ হবে বলেছে। আসলে কোথাও কাজ করেছে না-কি করেনি সেটা আমাদের জানায়নি।

এ বিষয়ে ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য ও প্রকল্পের সভাপতি মোহাম্মদ মুক্তার আলী বলেন, জরুরি ভাবে আগেই কাজটি করে রেখেছিলাম। অর্ধেক বিল পেয়েছি বাকি বিল পেতে আবেদন করেছি। ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ হয়েছে উল্লেখ করে দুইমাস পর কেন সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে? এর কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো.আলী নূর বলেন, তাকে অগ্রীম অর্ধেক বিল দেওয়া হয়েছে। কাজ না করলে কোন বিল দেওয়া হবে না। যেটা দেওয়া হয়েছে সেটারও হিসেব নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন: