• সাভার

  •  শনিবার, মে ১৮, ২০২৪

নগর জুড়ে

ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে ক্লুলেস হত্যা মামলার আসামী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ২১:১২, ৭ মে ২০২৪

ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে ক্লুলেস হত্যা মামলার আসামী গ্রেফতার

ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে ক্লুলেস হত্যা মামলার আসামী গ্রেফতার

নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর এলাকায় চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস স্বপন হত্যা মামলার ঘটনায় জড়িত হত্যাকারী ও হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী নুরুল আমীনকে ঢাকার দক্ষিণ কেরণীগঞ্জ এলাকা হতে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০ ও র‌্যাব-১৪ এর যৌথ আভিযানিক দল।

সোমবার (৬ মে) আনুমানিক রাত সাড়ে ৯টায় র‌্যাব-১০ ও র‌্যাব-১৪ এর একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানাধীন কদমতলী এলাকায় একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে আসামীকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতার আসামীর নাম নুরুল আমিন (৪২)। সে নারায়ণগঞ্জ জেলার এনায়েত নগর এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ১১ মার্চ সকাল আনুমানিক ১০টা ১৫ মিনিটে নারায়নগঞ্জ সদর নৌ থানায় কর্মরত এসআই মোঃ সবুর মিয়া সঙ্গীয় ফোর্সসহ নৌ টহল করা কালে সংবাদ প্রাপ্ত হন যে নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন আলআমিন নগর সাকিনস্থ শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ে একটি অজ্ঞাতনামা ভিকটিমের (৩৫) মৃতদেহ ভাসছে। পরবর্তীতে এসআই মোঃ সবুর মিয়া মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুলকালে অজ্ঞাতনামা ভিকটিমের চোখের ডান পাশে ও কোমরের উপরের তলপেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের মাধ্যমে কাটা রক্তাক্ত জখম এবং বুকে রক্ত জমাট আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান।

উক্ত ঘটনায় নারায়নগঞ্জ সদর নৌ থানায় কর্মরত এসআই মোঃ সবুর মিয়া বাদী হয়ে গত ১২ মার্চ নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-১৬, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০। পরে মামলা রুজুর বিষয়টি জানতে পেরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকল আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়। ঘটনাটি জানতে পেরে র‌্যাব-১০ ও র‌্যাব-১৪ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল পিয়ার আলী স্বপন হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকল আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।

মামলা রুজুর পর প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ভিকটিমের নাম পিয়ার আলী স্বপন (৩৫) এবং সে নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা এলাকায় বসবাস করত।ভিকটিম স্বপনের সাথে আসামী নুরুল আমিন (৪২) ও তার ছোট ভাই রুহুল আমিন (৩৯) অংশাদারি ভিত্তিতে কাপড়ের ব্যবসা করত। উক্ত ব্যবসায় বিনিয়োগকৃত টাকা লেনদেন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ভিকটিমের সাথে বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে আসামী নুরুল আমিন ও রুহুল আমিন অজ্ঞাতনামা অন্যান্য আসামীদের সহযোগীতায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে ভিকটিমকে হত্যা করার পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন আলআমিন নগর সাকিনস্থ এস এস ডক ইয়ার্ড সংলগ্ন শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামি উক্ত হত্যাকান্ডে তার সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। সে মামলা রুজুর পর হতে নিজেকে আইনের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য রাজধানী ঢাকা, আশুলিয়া ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে ছিল বলে জানা যায়।

এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই দেশের সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সব ধরণের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকে। জঙ্গী, সন্ত্রাসী, সংঘবদ্ধ অপরাধী, ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ী এবং খুন, অপহরন ও ধর্ষণসহ বিভিন্ন মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী গ্রেফতারে র‌্যাব নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসছে। গোয়েন্দা নজরদারী ও আভিযানিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে র‌্যাব ইতোমধ্যেই জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

মন্তব্য করুন: