• সাভার

  •  শনিবার, মে ১৮, ২০২৪

নগর জুড়ে

এডিসের লার্ভা পেলে ২৭ এপ্রিল থেকে জেল-জরিমানার হুঁশিয়ারি ডিএনসিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ১৭:১৭, ২২ এপ্রিল ২০২৪

এডিসের লার্ভা পেলে ২৭ এপ্রিল থেকে জেল-জরিমানার হুঁশিয়ারি ডিএনসিসি

এডিসের লার্ভা পেলে ২৭ এপ্রিল থেকে জেল-জরিমানার হুঁশিয়ারি ডিএনসিসির

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে একযোগে ডিএনসিসির সকল ওয়ার্ডে মাসব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচার অভিযান শুরু করেছি। মানুষকে সচেতন করছি। তবে আগামী ২৭ এপ্রিল থেকে কোনো বাসায় বা অফিসে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে জেল ও জরিমানা করা হবে।’

সোমবার (২২ এপ্রিল ২০২৪) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর রূপনগর এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে একযোগে ডিএনসিসির ৫৪টি ওয়ার্ডে মাসব্যাপী জনসচেতনতামূলক প্রচার অভিযান উদ্বোধনকালে ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম এসব কথা বলেন। আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি অফিসেও যদি লার্ভা পাওয়া যায় সে অফিসের যিনি দায়িত্বে আছেন তার বিরুদ্ধে মামলা হবে, জরিমানা হবে। এমনকি আমার সিটি করপোরেশনের কোনো অফিসেও যদি লার্ভা পাওয়া যায় সেই অফিসের কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমার ক্লিয়ার মেসেজ। লার্ভা পেলে মামলা হবে, জেল হবে, জরিমানা হবে এবং জরিমানার টাকার পরিমাণ আরো অনেক বেড়ে যাবে।

আমাদেরকে আরো ম্যাজিস্ট্রেট দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি আগেই ঘোষণা দিয়েছি ঈদের পর থেকে ডেঙ্গু মৌসুম শুরুর আগেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে একযোগে ৫৪টি ওয়ার্ডে সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করব। বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি কারিগরি কমিটি রয়েছে। তারা সব সময় আমাদের পরামর্শ দেন সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করি। আমাদের কীটতত্ত্ববিদরা বলেছেন এখন থেকেই মাঠে নামতে। তাই আমরা এই পদক্ষেপ নিয়েছি। সকলের কাছে বিনীত অনুরোধ, আপনারা সচেতন হলে জেল-জরিমানা, মামলার দরকার নেই। তিন দিনে এক দিন জমা পানি ফেলে দিন। এডিস মশা জন্মাতে পারে এমন জায়গাগুলো পরিষ্কার করুন।

এডিস মশা কামড় না দিলে ডেঙ্গু হবে না। সচেতন হয়ে নিজে নিরাপদ থাকুন, অন্যকেও নিরাপদ রাখুন।’ মতে খালের ও ড্রেনের ময়লা পানিতে এডিস মশা জন্মায় না উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ‘জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশা জন্মায়। যে সকল পরিত্যক্ত দ্রব্যাদিতে পানি জমে এডিসের লার্ভা জন্মাতে পারে সেসব দ্রব্যাদি সিটি করপোরেশন কিনে নিচ্ছে। ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত পলিথিন, চিপসের প্যাকেট, আইসক্রিমের কাপ, দইয়ের কাপ এগুলো যত্রতত্র না ফেলে ডিএনসিসির কাউন্সিলরদের কাছে জাম দিন টাকা গ্রহণ করুন। পুরনো টায়ার, কমোড, রঙের কৌটা এগুলো ছাদে বা বারান্দায় না রেখে আমাদের কাউন্সিলরদের কাছে জমা দিয়ে টাকা নিন।’

ডিএনসিসির মাসব্যাপী জনসচেতনতামূলক প্রচার অভিযান উদ্বোধন শেষে ডিএনসিসি মেয়র এডিস মশার উৎসস্থল-গাড়ির পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা, মাটির পাত্র, খাবারের প্যাকেট, অব্যবহৃত কমোড এগুলো দেখিয়ে জনগণকে সচেতন করেন এবং পরিত্যক্ত দ্রব্যাদি ক্রয়ের মাধ্যমে কার্যক্রমটি উদ্বোধন করেন। পরে ডিএনসিসি মেয়র অন্যান্য অতিথি, স্কাউট ও বিএনসিসির সদস্য, কাউন্সিলরসহ সবাইকে নিয়ে র‍্যালিতে অংশ নেন। সচেতনতামূলক র‍্যালিটি রূপনগর ২৩ নম্বর সড়ক হয়ে প্রধান সড়কের প্রায় আধাকিলোমিটার প্রদক্ষিণ করে। র‍্যালি শেষে ডিএনসিসি মেয়র জনসাধারণের মাঝে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ক লিফলেট বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে অন্যদের সঙ্গে আরো উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মঈন উদ্দিন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

মন্তব্য করুন: